সুপণ্ডিত সফিস্টিকেটেড বাবার জীবনে হঠাৎ করে অন্য এক তুচ্ছ নারীর টান। সংসারের চেনা হিসেব সেটার চোটে যেন তখন টালমাটাল প্রায়। পরে একদিন খুঁজে খুঁজে সেই নারীর বাড়ি হঠাৎ করে পোঁছে গেল ছেলে। চোখের দিকে দু’চোখ রেখে মুখোমুখি বসল তখন দু’জন খানিকক্ষণ।

সম্পর্কের এমন একটা প্যাটার্ন এঁকে তিনি সেটার নাম রেখেছিলেন ‘আবহমান’ (২০১০) বলে।

নগরবাসী সভ্য দুই সংবেদনশীল মানুষ এক বাড়িতে থাকেন। সম্পর্কের নিকট টানে দু’জন তাঁরা রক্তসূত্রে বাঁধা। তবু একজন অন্যজনকে কথায় কথায় ‘থ্যাংকস’ বলে যান খালি। আর সেটা শুনে অন্যজন বিব্রত হন খুব। মুহুর্মুহু ধন্যবাদের অভিব্যক্তি যে লোককে শুধু খুশিই করে না, অস্বস্তিতেও ফ্যালে, সেই ট্রিটমেন্ট তাঁর ছবি থেকেই জানা গেছিল তো ফার্স্ট।

ভদ্রলোকের দ্বিতীয় ছবি সেটা, ‘উনিশে এপ্রিল’ (১৯৯৪) নাম।

অসুস্থ মায়ের কথা শুনে কেরিয়ার ফেলে কলকাতায় ছুটে আসছে মেয়ে। মা’কে সারিয়ে তুলতে দাঁড়াচ্ছে এসে বৃদ্ধ বাবার পাশে। ছবি জুড়ে একের পর এক অনিবার্য বার্ধক্য আর হসপিটালের সিন। আর বাবার ভূমিকায় সেখানেও আবার সৌমিত্রই ছিলেন। এটা সেই ভদ্রলোকের চার নম্বর ছবি, জানেনই তো যে, সেটার নাম ‘অসুখ’ (১৯৯৯)।

বাড়ির কাজের মেয়ের ভূমিকাতে হঠাৎ করে এমন একজনকে নেওয়া, যে কাস্টিং দেখে চমকে যাবে সবাই। আর তাঁকে দিয়ে এমন অভিনয় করিয়ে নেওয়া, যে স্ক্রিনে সেটা দেখতে গিয়ে বিস্ময়ে দম আটকে আসবে যেন। এরপর সেই অভিনয়ের সূত্র ধরেই জাতীয় পুরস্কার পৌঁছে যাবে সেই অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর কাছে।

এটা হল ‘বাড়িওয়ালি’ (২০০০), তাঁর পাঁচ নম্বর ছবি।

কার কথা বলতে বলতে এলাম, এতক্ষণে সবাই সেটা বুঝতে পেরেছেন ঠিকই। বাংলা ছবির এঁদো ডোবার শেষ প্রতিভা তিনি। তাঁর পরেও ভাল ছবি তৈরি হয় নি যে তা নয়, কিন্তু আলাদা করে ওই মাপের ট্যালেন্ট আর কোন ডিরেক্টরের মধ্যে দেখতে পাই নি ভাই।

কোন মাপের প্রতিভা ছিলেন ঋতু সেটা বুঝতে গেলে অতনু ঘোষের ‘ময়ূরাক্ষী’ দেখে আসুন একবার প্লিজ। ভদ্রলোক পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সাড়ে চার বছর হল। এদিকে তাঁর এই ছবি থেকে এটা, ওই ছবি থেকে ওটা ধার করে, জমিয়ে ম্যাশ আপ করে বাংলাবাজারে দিব্যি দেখছি তৈরি হচ্ছে সিনেমা!

ওপরে যে কটা ছবির যে কটা বিষয় লিখেছি, তার সবকটা হালকা এদিক-ওদিক করে অতনুর এই ছবিটায় আছে! এই ছবিটাও সেই ‘আবহমান’ বাবা-ছেলের গল্প! মধ্যিখানে রহস্যময়ী ‘ময়ূরাক্ষী’ নাম। এই ছবিতেও আপনি পাবেন ‘থ্যাংকস’ শব্দটা ইউজ করে দূরত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার আর অস্বস্তি তৈরি করার ওই মোমেন্টগুলো। এই ছবিতেও আপনি পাবেন প্রবীণ গুরুজনের অসুখ শুনে দূর দেশ থেকে কাজ ফেলে ছুটে এসে হাসপাতালে সময় কাটাতে থাকার সিন।

 Tags:  
 Comment
0

No one commented yet.